আলোকিত লালমনিরহাট গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব

আলোকিত লালমনিরহাট গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব

 

সারাদেশ ডেস্ক

লালমনিরহাটকে আলোকিত জেলায় রূপান্তর করতে হলে স্থানীয় জনগণ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য—এমন মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপ্রবণ এই অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ছিল লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রশাসক রাজিব আহসান, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, তরুণ সংগঠক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মন্ত্রী দুলু বলেন, “লালমনিরহাটকে একটি আলোকিত জেলায় রূপান্তর করতে হলে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার চেহারা বদলানো সম্ভব।”

সভায় অংশগ্রহণকারীরা লালমনিরহাটের বর্তমান সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বক্তারা মাদক নির্মূল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃজন, শহরের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মতবিনিময়কালে তরুণরা বিশেষভাবে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মসংস্থানমুখী লালমনিরহাট গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি একটি সম্মিলিত স্বপ্ন, যেখানে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও সামাজিক বন্ধন সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের মতবিনিময় সভার মাধ্যমে জনগণের মতামত সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। মন্ত্রী এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জেলার সর্বস্তরের জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

সভায় বক্তৃতা এবং আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, লালমনিরহাটকে টেকসই ও আলোকিত জেলায় পরিণত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, স্থানীয় জনগণ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ