ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি, পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তীব্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি, পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন করে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে পরিচালিত এ হামলায় একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই অন্তত ১১টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা পরিচালিত হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, তেল আবিব লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র একাধিক স্থানে আঘাত হানে এবং এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বৃহত্তর তেল আবিবের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবন, সড়ক ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। ইসরায়েলি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ১১টি স্থানে এসব ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে এবং সেখানকার অবকাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে হামলার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। নেগেভ মরুভূমি, ডিমোনা, বিয়ার শেবা, আরাদ ও আশকেলনসহ একাধিক এলাকায় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার নতুন ধাপ নির্দেশ করছে। এর আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দুটি পারমাণবিক স্থাপনা ও একটি বড় শিল্প অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বর্তমান হামলাকে সেই প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বৈরিতার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ