শিক্ষা ডেস্ক
দেশের উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুলভ ও শিক্ষাবান্ধব করতে বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত কেন্দ্রটি চালু হলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে।
গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রস্তাবিত স্থানের সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য রাজধানী ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম তিনক্ষেত্রেই বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মহাস্থানগড়ে আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হলে এই সেবা ঘরের কাছেই পাওয়া সম্ভব হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করবে।
প্রস্তাবিত কেন্দ্রে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি একটি আধুনিক টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এখানে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে এই অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও প্রশাসনিক কাজের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাদার দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। এই উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিকল্পিত কেন্দ্রটি কেবল প্রশাসনিক সুবিধা প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শিক্ষার বিভিন্ন দিক যেমন শিক্ষকদের পেশাদার উন্নয়ন, শিক্ষার্থী মনিটরিং এবং শিক্ষাগত গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে। সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটি দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখা হবে।
শিবগঞ্জ মহাস্থানগড় এলাকার স্থানীয়রা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের যাতায়াতের খরচ কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এটি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।


