পদ্মা নদীতে ফেরি দুর্ঘটনায় রানা প্লাজা বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু

পদ্মা নদীতে ফেরি দুর্ঘটনায় রানা প্লাজা বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু

 

সারাদেশ ডেস্ক

ঢাকার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গত ২৫ মার্চ বিকেলে ঘটে যাওয়া পদ্মা নদীর বাসডুবিতে ৪০ বছর বয়সী নাসিমা বেগমসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নাসিমা বেগম ছিলেন ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরার পর আলোচিত ব্যক্তি। এই দুর্ঘটনায় তার ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানও প্রাণ হারিয়েছেন।

নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে গিয়েছিলেন, তবে এক মাসেরও বেশি সময় চাকরি খুঁজে পাননি। পরে ঈদ উপলক্ষে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।

ঈদের ছুটির পর ২৫ মার্চ বিকেলে নাসিমা বেগম, ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে তারা সবাই পানিতে ডুবে যান। কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও নাসিমা বেগমসহ বাকি তিনজনের লাশ রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের লাশ বাড়িতে নেওয়ার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় আবারও একটি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে এতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পরবর্তীতে নিহতদের জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে জীবিত উদ্ধার হন। ভবনের ধ্বংসস্তূপে তিনি তিন দিন আটকে থাকার পর বেঁচে ফিরেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি গ্রামে অবস্থান করলেও, বর্তমান জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে পুনরায় শহরে এসেছিলেন।

পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, নিহত নাসিমা বেগমের পরিবারের কাছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বাসডুবি দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে নিরাপত্তা ও ফেরা ফেরির ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ বা উৎসবের সময় বড় সংখক যাত্রীদের পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ নৌ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ধার কর্মকাণ্ড চালানোর প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

নাসিমা বেগমের মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলেছে তার গ্রামের বাড়িতে এবং পরিজনদের মধ্যে। তিনি জীবন যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিঃসঙ্গ ও প্রতিশ্রুতিশীলভাবে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছিলেন, যা তার প্রাসঙ্গিকতার পাশাপাশি সামাজিক জীবনের সংকটকেও তুলে ধরে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ