আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আগামী শনিবার ‘নো কিংস’ শিরোনামের বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিবিরোধী প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে। আন্দোলন আয়োজকরা জানিয়েছেন, সারা দেশে একযোগে তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের দিনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা যেতে পারে।
আয়োজকরা জানাচ্ছেন, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির বিরুদ্ধে নাগরিকদের জোরালো প্রতিবাদ ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করা। বিশেষ করে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত বিষয়ক নীতি নিয়ে সমালোচনা প্রধান অংশের মধ্যে থাকবে।
গত ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরেও ‘নো কিংস’ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন লাখ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নামে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুনের বিক্ষোভে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অংশ নেন এবং অক্টোবরের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখে পৌঁছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আন্দোলনকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এবারের বিক্ষোভও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিককে রাস্তায় নামাতে সক্ষম হবে।
বৃহত্তর শহরগুলোতে যেমন ওয়াশিংটন ডিসি, মিনিয়াপোলিস, শিকাগো এবং সান ফ্রান্সিসকোতে বড় আকারের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ছোট অঙ্গরাজ্য ভারমন্টেও ৪০টির বেশি বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ভারমন্টের মোট জনসংখ্যা মাত্র ৬ লাখ ৪৬ হাজার হলেও সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়টি আন্দোলনের ব্যাপকতা প্রদর্শন করে।
আয়োজকরা মনে করছেন, ‘নো কিংস’ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সমাজে সরকারী নীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি এটি নাগরিক অধিকার, অভিবাসন নীতি ও আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে বৃহত্তর জনসচেতনতা তৈরি করার উদ্দেশ্যও ধারণ করে।
বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শহরের কেন্দ্রস্থলে জনজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই অঙ্গরাজ্য ও শহর ভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ মোতায়েন, সড়ক বন্ধ এবং জরুরি পরিষেবার দ্রুত কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বৃহৎ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। নাগরিকরা তাদের বিরোধী ও সমর্থনমূলক মত প্রকাশের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংলাপকে আরও প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে সক্ষম।
এদিকে, আন্দোলনের আয়োজকরা জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করবেন এবং কোনও রকম সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত হবেন না। এই দিকটি নিশ্চিত করার জন্য কর্মসূচি পরিচালনায় স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সার্বিকভাবে, ‘নো কিংস’ আন্দোলন আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত ও নাগরিক অংশগ্রহণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


