আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার সরকার আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ সংক্রান্ত খসড়া প্রণয়ন করতে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দার নোভাক। সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।
উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অব্যাহত সংকট বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা করছে। তিনি জানান, যদিও রাশিয়ার বিদেশি বাজারে জ্বালানির চাহিদা এখনও অনেক বেশি, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমানে প্রধান লক্ষ্য।
রাশিয়া সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে তেল পরিশোধনের পরিমাণ গত বছরের সমপর্যায়ে রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সীমিত করলে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপট কাজ করছে। গত বছর রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে পেট্রোলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছিল। ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে দেশটির কিছু তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার চাপ বাড়িয়েছে। তখন রাশিয়া কয়েকবার পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল, যাতে দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা যায় এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
বিশ্ব বাজারে রাশিয়ার এই সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতোমধ্যেই জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচিত। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ সীমিত হলে মূল্যস্ফীতি দেখা দিতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোয় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, রাশিয়ার রপ্তানি হ্রাসের ফলে ইউরোপীয় এবং এশীয় বাজারে জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে চাপ পড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হলে দেশের তেলের মূল্য এবং বাজার স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশের ভেতরে তেল পরিশোধন এবং বিতরণ কার্যক্রম গত বছরের সমপর্যায়ে কার্যকর রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার এই সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলিত হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মূল্য ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বিভিন্ন দেশকে স্বল্প-মেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে।


