সারাদেশ ডেস্ক
শরীয়তপুরে ১৪ জন নিহতের স্মরণে নির্মিত জুলাই আন্দোলন স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন যুবক স্মৃতিস্তম্ভে আগুন লাগাতে দেখা গেছে। প্রায় ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে অগ্নিসংযোগের পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, শহরের শহীদ মিনারের পাশে কংক্রিট ভিত্তিতে লোহার কাঠামোতে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে জুলাই আন্দোলনে নিহত শরীয়তপুরের ১৪ জন শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছিল। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। অভিযোগ উঠেছে, এই ভিডিওটি একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে হামলা পরিকল্পিত এবং এটি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তিনি দ্রুত তদন্ত চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগের কোনো সময়ের ঘটনা হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন, স্মৃতিস্তম্ভে এই ধরনের আক্রমণ শুধুমাত্র শহীদদের প্রতি অসম্মান নয়, এটি এলাকার সামাজিক সংহতি ও শান্তিপ্রিয় পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। জেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা বলেছে, অগ্নিসংযোগের পেছনের কারণ চিহ্নিত করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা তাদের অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্মৃতিস্তম্ভের প্রতি এই ধরনের আক্রমণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়, যা দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় শান্তি ও শিক্ষাব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনসহ জনসাধারণের উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ঘটনার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার সম্ভাবনা কমানো জরুরি।
স্মরণযোগ্য, জুলাই আন্দোলন ১৯৯০-এর দশকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছাত্রদের অংশগ্রহণে সংঘটিত হয়েছিল, যার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছিল। শরীয়তপুরেও ১৪ জন ছাত্র নিহত হয়। স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের ত্যাগ ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে সংযুক্ত রাখা।


