জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অতীত সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। রবিবার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়মের বিষয়টি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন তহবিল ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবের কারণে দেশের কিছু অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ হয়।
বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় এখনো কাঁচা সড়ক বিদ্যমান রয়েছে। এসব সড়ক ধাপে ধাপে পাকা করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য সড়ক অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কাঁচা সড়কগুলোকে পাকা সড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার সড়ক নামকরণ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা মহানগরের মোট ১২১টি সড়কের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ৮৩টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩৮টি সড়ক রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব সড়কের নামকরণে দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে শহীদ ব্যক্তিদের নামে সড়ক, ভবন ও অন্যান্য স্থাপনার নামকরণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং সামাজিক সেবার আওতা বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


