রমজান ও ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকাজ শুরু

রমজান ও ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকাজ শুরু

জাতীয় ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ রবিবার থেকে পুনরায় শ্রেণিকাজ শুরু হয়েছে। টানা প্রায় ৪০ দিনের ছুটি শেষ হলেও মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কার্যক্রম আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছুটির কারণে সৃষ্ট শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্ণোদ্যমে পাঠদান চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি কার্যকর ছিল। যদিও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রমজান ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল ৮ মার্চ থেকে, তবে আদালতের নির্দেশনা ও সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তা এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ দিন আগে ছুটি শুরু হয় এবং শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষের বাইরে থাকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরের শুরুতেই নির্বাচন, রমজান মাস ও ঈদের ছুটির কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটির পরপরই নিয়মিত পাঠদান জোরদার এবং অতিরিক্ত মনোযোগের মাধ্যমে পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিখন ঘাটতি কমাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঈদের ছুটির পর প্রথম ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ তৈরি হবে এবং নির্ধারিত পাঠ্যসূচি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ছুটির পর পাঠদান শুরুর আগে ও পরে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস শুরু হওয়ার আগে সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে তদারকি জোরদার করা, প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও বাগান পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীদের আবার পাঠাভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানিয়েছেন, বছরের বাকি সময়ে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী শ্রেণিকাজ পরিচালনা করা হলে পূর্বের ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ