ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেনা: যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান হলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেনা: যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান হলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি রোববার এক কড়া বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের স্থল অভিযান বা দখলের চেষ্টা চালায়, তার ফলাফল ভয়াবহ হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযান সংক্রান্ত হুমকিকে ‘অবাস্তব’ ও ‘উদ্ভট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

জোলফাকারি বলেন, পারস্য উপসাগরে যেকোনো মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় তাদের বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হবে এবং শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা ওই অঞ্চলের ‘হাঙ্গরের খাদ্য’ হিসেবে পরিণত হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে অসংলগ্ন ও অবিশ্বস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেন, এটি মার্কিন সেনাদের একটি ‘মরণফাঁদ’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই প্রতিদিন মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। জোলফাকারি উল্লেখ করেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘাঁটিগুলো ছেড়ে মার্কিন সেনারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে, তবে সেখানেও তারা হামলার হাত থেকে নিরাপদ নয়।

তিনি আরও জানান, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে যেকোনো ধরনের স্থল যুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে এবং অনুপ্রবেশের জবাবে দখলদার বাহিনীকে বন্দি বা নিশ্চিহ্ন করতে দ্বিধা করবে না। জোলফাকারির এই সতর্কতা ইরানি বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রস্তুতির পরিচায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুখপাত্র মার্কিন নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইরানের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেন এবং অতীতে বিদেশি আক্রমণকারীদের পরিণতি স্মরণ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক প্রাণহানি এবং চরম অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।

জোলফাকারি উল্লেখ করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো প্র্যাকটিক্যাল থ্রেট বা সরাসরি হামলা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক জবাব দেবে। তিনি বলেন, মার্কিন নেতৃত্ব তাদের সামরিক কমান্ড এমন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছে যার ভুল সিদ্ধান্তগুলো পুরো বাহিনীকে ধ্বংসের মুখে ফেলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অঘোষিত সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুল প্রাণহানি ঘটেছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অধিকৃত ভূখণ্ড এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুঁড়ে আঘাত হেনেছে। বর্তমানে এই সংঘাত চরম উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উভয় পক্ষ একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ