জাতীয় ডেস্ক
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) বিএনপি নেতা রাশেদ খান গণভোট অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে এই অভিযোগ তুলে ধরে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
রাশেদ খানের দাবি, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে বর্তমানে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি জানান, গণভোটটি যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা নিয়ে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের মধ্যে বিতর্ক ছিল। কমিশনের মধ্যে উত্থাপিত কিছু প্রস্তাবে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল। তবে স্বাক্ষরের পর সরকারের প্রকাশিত দলিলে নোট অব ডিসেন্ট বাতিল করে প্রদর্শন করা হয়, যা রাশেদ খানের মতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণভোট অধ্যাদেশ জারি করার সময় চারটি প্রশ্নের একটি মাত্র উত্তরের বিকল্প রাখা হয়েছিল। এতে ভোটারদের স্বাধীনভাবে “হ্যাঁ” বা “না” চিহ্নিত করার সুযোগ সীমিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আরেকটি ধরনের জালিয়াতি করেছে।
রাশেদ খান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে আলোচ্য বিষয়গুলোর সংসদে পুনরায় আলোচনা ও গণভোটের প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর করেনি। তিনি যুক্তি দেন, সাধারণত জাতীয় নির্বাচনের পরই গণভোটের আয়োজন করা হয়, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কমিশনের উপর চাপ সৃষ্টি করে নির্বাচনের আগে বা একই দিনে গণভোট আয়োজন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির মূল বক্তব্য ছিল সংসদে আলোচনার মাধ্যমে যদি ঐক্যমত না হয়, তখন গণভোট আয়োজন করা। তবে এই প্রক্রিয়া অবহেলা করে ভোট করানো হয়েছে। রাশেদ খানের মতে, ডিপ স্টেটের পরামর্শে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও কমিশনের সদস্যরা নির্বাচন পেছাতে এবং রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
রাশেদ খান বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, যে বিষয়ে কমিশনে ইতিমধ্যেই সম্মতি হয়েছিল, সেগুলোকে বিএনপি নির্বাচনের আগে থেকে সংশোধনের চেষ্টা করে আসছে। তিনি জানান, গণভোট অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে তোলা হলে পুনরায় আলোচনা হবে, যা ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপির নয়।
বৃহৎ প্রেক্ষাপটে, রাশেদ খানের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও গণভোট সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। তিনি মনে করেন, কমিশন ও সরকারের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অভিযোগগুলো ভোটাধিকার সংক্রান্ত আইন ও জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভোটের প্রক্রিয়া, গণভোটের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারীর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রাসঙ্গিকতা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
রাশেদ খানের এই বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে, যা আগামী রাজনৈতিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারে।


