খেলাধূলা ডেস্ক
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) চলতি আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের বোলিং না করা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচ শেষে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়, বিশেষ করে দলটির পেস বোলিং সংকটের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রোববার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২২০ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় কলকাতা। তবে সেই লক্ষ্য তাড়া করে ৫ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ম্যাচটিতে কলকাতার বোলিং আক্রমণে কার্যকর পেস বিকল্পের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে দলে থাকা সত্ত্বেও গ্রিন বল হাতে নামেননি।
আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম উচ্চমূল্যে দলে ভেড়ানো বিদেশি ক্রিকেটার গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি রুপিতে দলে নেয় কলকাতা। অলরাউন্ডার হিসেবে তার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং দক্ষতাও দলীয় ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু ইনজুরিজনিত কারণে তিনি এখনও পুরোপুরি বোলিংয়ে ফিরতে পারেননি।
জানা গেছে, গ্রিন দীর্ঘদিন পিঠের চোটে ভুগছিলেন। সে কারণে তাকে ধীরে ধীরে বোলিংয়ে ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইনজুরি থেকে সেরে উঠলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আপাতত তাকে বোলিং থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানান, ভারতীয় কন্ডিশনে বোলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেসে ফিরতে গ্রিনের আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, “ক্যামেরন গ্রিন ধীরে ধীরে বোলিং লোড নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। পুরোপুরি বোলিংয়ে ফিরতে তার আনুমানিক ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে।” একই সঙ্গে কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ম্যাচ শেষে কলকাতা দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে গ্রিনের বোলিং প্রসঙ্গে বলেন, দলের ভারসাম্যের জন্য তার বোলিং গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, “গ্রিন দ্রুত বোলিংয়ে ফিরতে পারলে দলের কম্বিনেশন পরিবর্তন হতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেখতে হচ্ছে কারা কার্যকরভাবে বোলিং করতে পারবে। ব্যাটিং ভালো হয়েছে, তবে বোলিংয়ে ভারসাম্য অর্জন করাও সমান জরুরি।”
তবে গ্রিনের বোলিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। কিছু সাবেক ক্রিকেটার এই ধরনের নিয়ন্ত্রণকে পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, একটি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখলে দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ে।
আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো, খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বকে বিবেচনায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো বোর্ডগুলো তাদের কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের ইনজুরি ব্যবস্থাপনায় অধিক সতর্ক থাকে, যাতে ভবিষ্যৎ সিরিজ ও টুর্নামেন্টে তাদের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য এই পরিস্থিতি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে উচ্চমূল্যে দলে নেওয়া একজন অলরাউন্ডারের পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে বোলিং ইউনিটে ভারসাম্য বজায় রাখতে বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
গ্রিন কবে নাগাদ বোলিংয়ে ফিরবেন, তা নির্ভর করছে তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতির ওপর। তবে তিনি বোলিংয়ে ফিরলে দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কলকাতার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।


