সারাদেশ ডেস্ক
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় উপজেলা বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান আকন্দ শফিককে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল ও তার ভাইদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক উপজেলা বিএনপির সহসমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। তার অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির সামনের বিলে জমিতে ঘাস কাটার সময় জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে সোহেল ও তার ভাইরা তাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করেছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
মেহেদী হাসান সোমবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২)-কে আসামি করা হয়েছে। তারা সকলেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
রবিবার মদন পৌরশহরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্তরা সাধারণ মানুষকে হুমকি ও নির্যাতনের চেষ্টা করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাঁধা দিয়েছি, এরপর আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। উভয় পক্ষের পক্ষেই বক্তব্য পাওয়া গেছে এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে পুলিশ জানাচ্ছে।


