শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ

শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ

 

স্বাস্থ্য ডেস্ক

দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, দেশে শিশুদের মধ্যে হামসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নবজাতক ও গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিনি বলেন, শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ যেমন জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া বা কাশি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া হলে জটিলতা কমানো সম্ভব। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বার্তায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সুবিধার অভাবের কারণে অনেক রোগীকে রাজধানীমুখী হতে হয়, যা চিকিৎসা গ্রহণে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সারাদেশে শিশুস্বাস্থ্য সেবার অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।

শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে চিকিৎসকরা মনে করেন। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হয়, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়া শিশুদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, পরিবেশ ও পরিচর্যার বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়। শিশুর সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবারভিত্তিক যত্ন ও পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশে মৌসুমি পরিবর্তন ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের কারণে ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থায় অভিভাবকদের সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা গেলে শিশুদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

শীর্ষ সংবাদ স্বাস্থ্য