স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব ও বীরত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব আরোপ

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার নেতৃত্ব ও বীরত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব আরোপ

জাতীয় ডেস্ক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এক অবিনাশী সত্য।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করেছে সংবাদ সংস্থা ড্যাব।

সভায় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বীরত্ব ও নেতৃত্বের তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাস নিজস্ব বিবর্তনের ধারায় গঠিত হয় এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তা মনগড়াভাবে লিখতে পারে না।

তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃতির যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তা আর সম্ভব নয়। মন্ত্রী ১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে উল্লেখ করেন, সেই নির্বাচনে দেশের জনগণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালায়। সেই সংকটকালীন মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ‘আই রিভোল্ট’ ঘোষণা করে সম্মুখ সমরে নেতৃত্ব দেন।

তিনি আরও বলেন, ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে যুদ্ধের পথ দেখিয়েছিল। ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণেও এই বিদ্রোহ ও ঘোষণার স্বীকৃতি রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তি এবং সিটিজেন জার্নালিজমের যুগ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রজন্মের জন্য ইতিহাস বিকৃত করা বা সত্য লুকানো সম্ভব নয়। তিনি শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ধারার সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ জিয়াই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন এবং পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকেও পার্লামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সেই পথ অনুসরণ করে বিএনপি দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং ড্যাব-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ