আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের এখনও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা থাকলেও তা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। সম্প্রতি প্রচারিত এক রেকর্ডকৃত ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন এবং চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অবস্থান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তার মতে, ইরান এখনও আক্রমণ পরিচালনার সামর্থ্য রাখলেও তা ইসরায়েলকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলার মতো নয়। তিনি আরও বলেন, শুধু ইরানই নয়, তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে কমে এসেছে।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে কিছু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিকট ভবিষ্যতে এসব সম্ভাব্য অংশীদার দেশের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব কমে আসার একটি ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে এটি আরব বিশ্বের কিছু দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রতিফলন হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নতুন জোট বা অংশীদারিত্ব গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করে আসছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ইসরায়েল এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং এ কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান। সাম্প্রতিক সংঘাত সেই উত্তেজনাকে আরও জোরালো করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলের জনগণের প্রতি আশ্বাস ব্যক্ত করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও সুসংহত হয়েছে। তার এই বক্তব্য অভ্যন্তরীণ জনমতকে স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং সম্ভাব্য নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে। পরিস্থিতির উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।


