ইসরায়েলি নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আহ্বান

ইসরায়েলি নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও হোয়াইট হাউসের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যাননের দাবি, ইয়ার নেতানিয়াহুকে সরাসরি যুদ্ধে পাঠানো উচিত।

ব্যাননের বক্তব্য একটি ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহুর একটি ছেলে মিয়ামিতে অবস্থান করছে। তাকে কালই দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি প্রয়োজন হয়, তাকে ইসরায়েলে ফেরত পাঠিয়ে ইউনিফর্ম পরিয়ে যুদ্ধের প্রথম সারিতে নামানো হোক।”

ব্যানন এই আহ্বান জানান সেই প্রেক্ষাপটে, যেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) ও সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে নেতানিয়াহুর দুই ছেলে—ইয়ার ও অ্যাভনার—কাউকেই সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে দেখা যায়নি। অ্যাভনার সাধারণত প্রচারবিমুখ হলেও ইয়ার নেতানিয়াহু নিয়মিত সংবাদপত্রে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের কারণে শিরোনামে থাকেন।

ভিডিওতে ব্যানন আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে কাতার ও সৌদির রাজপুত্রদেরও পাঠানো উচিত। তাদের লন্ডনের ক্যাসিনো ও অন্যান্য বিনোদনস্থল থেকে সরিয়ে আনা দরকার।” এছাড়া ব্যানন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও সমালোচনা করেছেন, অভিযোগ করেছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শোষণ করছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি, আরব এবং ইউরোপীয়রা আমাদের সঙ্গে কৌশলগত খেলা খেলছে। আমরা কী করছি? সেখানে সৈন্য পাঠাচ্ছি। সামরিক অভিযানে বিজয় নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিকল্প এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা প্রয়োজন।”

এর আগে ব্যানন নিজের পডকাস্ট ‘ওয়ার রুম’-এ উল্লেখ করেছেন, যে কোনো স্থল অভিযানের প্রথম ধাপে উপসাগরীয় অঞ্চলের অভিজাতদের এবং তাদের সন্তানদের উপস্থিত থাকা উচিত। একই ধরনের আহ্বান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকেও সেনাবাহিনীতে পাঠানোর দাবি নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু হয়েছে, যেখানে ব্যারন ট্রাম্পের সাহসিকতার প্রশংসা করা হয়েছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তানদের সামরিক অভিযানে পাঠানোর বিষয়টি নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সৈন্যদল বা ‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’ প্রথা রয়েছে। তবে ১৯৫৩ সালের পর দেশটিতে নতুন করে ‘ড্রাফট’ বা বাধ্যতামূলক নিয়োগ হয়নি। কোনো সৈন্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেস উভয়ের অনুমোদন প্রয়োজন।

ব্যাননের মন্তব্য ও আহ্বান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষত তখন যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই আহ্বান প্রদর্শন করেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত মতামত এবং সামরিক নীতির মধ্যে জটিল সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ