আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতে বিমানবন্দরে পুনরায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে বড় ধরনের আগুন লেগেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা কুনা বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে। তবে হামলার সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদ সংস্থা কুনার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর এবং সেখানে সংরক্ষিত জ্বালানি মজুদের ওপর একাধিক ড্রোন হামলার মধ্যে সর্বশেষ এই হামলাটি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তেহরান নানা আক্রমণ চালাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়ার প্রসার ঘটতে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানান, বুধবারের হামলায় কুয়েত এভিয়েশন ফুয়েলিং কোম্পানির মালিকানাধীন জ্বালানি ট্যাংকারগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, তেল মজুদের স্থাপনা এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলাগুলো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
কুয়েতের জন্য এই ধরনের হামলা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে দেশটির বিমানবন্দর এবং জ্বালানি মজুদের ওপর বিভিন্ন সময়ে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এই ধরনের হামলা প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের বা অন্যান্য পক্ষের সম্ভাব্য হামলা অঞ্চলীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম এবং পরিবহন খাতে ব্যাঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় কুয়েত সরকার হামলার কারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে।


