আইন আদালত ডেস্ক
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানকালে এক নারী (৩২)কে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে। আহত নারী গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার আসামির নাম রাশেদুজ্জামান রাশেদ (৪০)। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত দ্বিতীয় আসামি। রাশেদ পাংশা শহরে কসমেটিকস ব্যবসা পরিচালনা করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পাংশা উপজেলার হাসিবুর রহমান ওরফে অন্তর (৩২) এবং মো. বরকত মুন্সী (৩৪)। রাশেদুজ্জামানকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পাংশা শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগকারী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আনুষাঙ্গিক আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে প্রেরণের পর অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও অভিযোগকারী নারীর বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী তার ব্যক্তিগত কাজে সোমবার পাংশায় এসেছিলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কুষ্টিয়া ফেরার উদ্দেশ্যে মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করার সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তিনজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর মাইক্রোবাসে পাংশা উপজেলার কুলটিয়া এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে নারীরকে কুষ্টিয়া সদর থানার এলাকা একটি ফাঁকা স্থানে নামিয়ে মাইক্রোবাস ছেড়ে চলে যায়।
ঘটনার পর আক্রান্ত নারী কুষ্টিয়া সদর থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে স্থানীয় থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাংশা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
খোঁজখবর ও তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আসামি হাসিবুর রহমানের সঙ্গে কয়েক বছর আগে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে কয়েক মাস আগে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এছাড়া ওই নারী হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার একটি আদালতে টাকাসংক্রান্ত মামলাও দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে রাশেদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। প্রধান আসামির সঙ্গে নারীর আগের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে এবং চলমান মামলাসহ অন্যান্য আইনগত বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে।”
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।


