ফুটপাত দখলমুক্ত করতে রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান শুরু

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান শুরু

রাজধানী ডেস্ক

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৈধ সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে আজ বুধবার থেকে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার তালেবুর রহমান জানান, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাজধানীর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ফুটপাত ও সড়কের দখলকৃত অংশ দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হয়েছে।

রাজধানীর ধোলাইখালসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাতের বড় অংশ জুড়ে টায়ার, ভারী যন্ত্রপাতি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ রেখে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ফার্নিচার, খাদ্যপণ্য ও মুদিসামগ্রী বিক্রেতারাও দোকানের বাইরের অংশে পণ্য প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করছেন। এতে ফুটপাতের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে এবং পথচারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছেন, যা যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নগরীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে জানা গেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ সীমানার বাইরে অতিরিক্ত অংশ দখল করে ফুটপাত ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অভিযানের মাধ্যমে ফুটপাত ও সড়কের দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল ও কাবাব মেশিন, মোটর ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং সামগ্রী, পোশাক ও আসবাবপত্রের প্রদর্শনী সামগ্রীসহ নানা পণ্য ফুটপাত ও সড়কের ওপর রাখা হচ্ছে। এছাড়া কিছু মোটরগাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ সড়কের একটি লেন দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের দখল কার্যক্রম নগর ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং নাগরিক জীবনে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল, পথচারীর নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

ডিএমপি জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং দখলকৃত মালামাল জব্দসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অনানুষ্ঠানিক খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নির্ধারিত এলাকায় হকারদের জন্য হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। এতে একদিকে যেমন ফুটপাত দখল কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকাও সচল রাখা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে রাজধানীর ফুটপাতগুলো ধীরে ধীরে দখলমুক্ত হবে এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ