সংবিধান সংস্কার নিয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন

সংবিধান সংস্কার নিয়ে সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন

জাতীয় ডেস্ক

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর বৈধতা পর্যালোচনা করে সর্বদলীয় সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উত্থাপিত এই প্রস্তাব অনুসারে, জাতীয় সংসদের সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা সংবিধান সংশোধনী বা সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সাংবিধানিক কাঠামো সুস্পষ্ট নয়। তিনি ৭২ ও ৭৩ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জানান, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান এবং ভাষণ প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক ভিত্তি বর্তমানে নেই। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে রাষ্ট্রপতির আদেশ বৈধতা পেত এবং পরবর্তীতে সংবিধানের বিভিন্ন তফসিলে তা স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদ অধিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’-এর আইনগত অবস্থান পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো উদ্যোগ টেকসই হতে পারে না। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণ সকল ক্ষমতার উৎস হওয়ায় যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় জনগণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গণভোটের মাধ্যমে জনমত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকার করে বলেন, প্রশ্ন প্রণয়ন ও উপস্থাপনার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ একাধিক বিষয় একত্রে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) সংসদে বলেন, সংবিধান সংশোধনী নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকে সমান সংখ্যক সদস্য থাকা প্রয়োজন। তিনি সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে তার বক্তব্যের অসঙ্গতি তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘সরকারি দল থেকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে। আমরা সংকট তৈরি করতে নয়, সমাধান করতে এসেছি। আমরা সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে একমত হয়েছি বলে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃত বিষয় হলো সংবিধান সংস্কার।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, সংসদে সদস্যদের আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারণ করা হলে ইতিবাচক ফলাফল আশা করা যায় না। তাই সমান সংখ্যক সদস্য নিশ্চিত হলে বিরোধী দল এই উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের সমন্বয়পূর্ণ কমিটি গঠন সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

সংবাদে উল্লেখ্য, উভয় পক্ষের প্রস্তাব অনুসারে গঠিত এই কমিটি সংবিধান সংশোধনী বা সংস্কারের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করবে। বিষয়টি দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ