সোনার বাজারে আবারো উর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ২২ ক্যারেটের ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ছাড়ালো

সোনার বাজারে আবারো উর্ধ্বমুখী প্রবণতা, ২২ ক্যারেটের ভরি দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ছাড়ালো

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে সোনার দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন মূল্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্বের সমন্বয় অনুযায়ী, ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর করা ২২ ক্যারেটের ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। একই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা ছিল। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি দামের বৃদ্ধি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর ও বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা দেশের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাছাড়া স্থানীয় সোনার চাহিদা, সরবরাহ এবং আমদানি শুল্কের পরিবর্তনও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। বাজুস নিয়মিতভাবে দেশব্যাপী বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর করে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সোনার দর বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে দেশের বাজারে সোনার দামের আরও ওঠাপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সোনার ক্রয়-বিক্রয় এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশে সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণের নিয়মটি মূলত স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক দর বিবেচনায় প্রতি সপ্তাহ বা দৈনিকভাবে বাজুসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে শীতকাল ও উৎসবমুখর মৌসুমে সোনার ক্রয়-বিক্রয় বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় কার্যক্রম আরও গুরুত্ব পায়।

এই নতুন দামের ঘোষণা দেশের ছোট ও বড় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা গ্রাহককে সঠিক মূল্য জানাতে এবং ব্যবসায়িক হিসাব সমন্বয় করতে বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়। সোনার বাজারের এই গতিশীলতা দেশের বিনিয়োগ ও সঞ্চয় প্রবণতাকেও প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ