ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে: ট্রাম্প

ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে: ট্রাম্প

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান এবং নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি প্রায় এক মাস ধরে চলমান ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতি ও সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, চলমান অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির নৌ ও বিমান শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো বিস্তারিত তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।

ট্রাম্প তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যৌথ প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের ব্যর্থ হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, দেশটি অতীতে বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত। এই প্রেক্ষাপটে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয় এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

এক মাসব্যাপী এই সংঘাতের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্নে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মানবিক সংকট ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ