শিক্ষা ডেস্ক
নড়াইলের পূর্ব কালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার সরকারের ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান, এই কর্মসূচি দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের উপস্থিতি বাড়ানো এবং পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু করা হয়েছে।
বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি করবে এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এটি শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিন্নাতুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং সুশীলনের উপপরিচালক ও প্রকল্প ফোকাল শাহিনা পারভিন। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কারিগরি এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় সুশীলন কালিয়া উপজেলার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাবার বিতরণ শুরু করেছে। বিতরণকৃত টিফিনে থাকবে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, সিদ্ধ ডিম, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ইউএইচটি দুধ।
সুশীলনের নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান জানান, শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি দূরীকরণ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধের জন্য এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, সরবরাহিত খাবারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন ও ভিটামিন পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। এছাড়া তিনি সকল সংশ্লিষ্টের সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।
বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।


