বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ট্রাম্পের ভাষণে স্পষ্টতা নেই

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, ট্রাম্পের ভাষণে স্পষ্টতা নেই

 

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণের পর এশিয়ার তেল ও শেয়ার বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছে যায়, একই সঙ্গে এশিয়ার শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী প্রবণতা গ্রহণ করে।

ট্রাম্পের ভাষণে সংঘাতের সমাপ্তি এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নৌপরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত আশ্বাস প্রদান করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্যগুলো দ্রুত পূরণ করতে যাচ্ছে এবং দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে, যুদ্ধ ঠিক কীভাবে এবং কিভাবে সমাপ্ত হবে।

ভাষণের পর বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিশ্ব বাজারকে আশ্বস্ত করতে ট্রাম্পের বক্তব্য যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। বিশেষত, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে অমত হলে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানোর হুমকি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারেনি। এছাড়া, চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরায় শুরু হতে সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য শেষ করার পথে রয়েছি। তবে ইরানের ওপর কঠোর আঘাত চালানো হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দ্রুত সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।

প্রশাসনের অবস্থান সামরিক এবং কূটনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে পরস্পর ভিন্নভিন্ন বার্তা প্রদান করছে। ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একদিকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বললেও, অন্যদিকে প্রয়োজনে সংঘাত বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তবে ইরানের নেতারা আলোচনার প্রস্তাবে সহমত প্রকাশ করেননি।

গত এক মাসের সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের শীর্ষ নেতাসহ এক ডজনের বেশি গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে লক্ষ্য করে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী অবরোধ করা হয়েছে, যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ। এ কারণে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম বর্তমানে ৪ ডলারের উপরে উঠেছে।

ট্রাম্প ভাষণে উল্লেখ করেছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ‘স্বল্প সময়ের জন্য’ হবে এবং এটি মূলত বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের সামরিক হুমকির ফলাফল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা এবং অস্থিরতা আন্তর্জাতিক তেল বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এই সংঘাত এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালী অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ