খুলনা — জেলা প্রতিনিধি
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বদরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত সোলেমান লেংটার মেলা শুরু হওয়ার দুই দিন পর প্রশাসনের উদ্যোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মেলা বন্ধের তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ১০৭তম লেংটার ওরস ও মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলার সময়ে মাদকদ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, সেবন এবং অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন চলছে। এ ধরনের কার্যক্রমে এলাকার যুবক ও কিশোরদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে এবং সামাজিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোলায়মান লেংটা বাবা ১৩২৫ সালের চৈত্র মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তার স্মরণে প্রতিবছর চৈত্র মাসের ১৭ তারিখে বদরপুর এলাকায় মেলার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়ভাবে এটি ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত। অন্যান্য বছরের তুলনায় সাত দিনব্যাপী মেলায় লাখো মানুষের সমাগম হয়। তবে এ বছর মেলায় অন্তত দুই হাজারের বেশি গাঁজার দোকান এবং অর্ধশতাধিক অশ্লীল নৃত্যের আসর বসেছে।
মেলায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলার মানুষ উপস্থিত থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও মাদকের কার্যক্রম চলমান থাকে। মেলার তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিক্রেতারা বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। মাজারের পশ্চিম দিকে পুকুর পাড়, বাগান এবং বেড়িবাঁধ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজা, ইয়াবা ও আফিমসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি ও সেবনের কার্যক্রম চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, মেলার ভেতরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হচ্ছে এবং এর ফলে স্থানীয় কিশোর ও তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পোশাকধারী অর্ধশত পুলিশ সদস্য ও সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, ‘আজ সন্ধ্যায় মেলা বন্ধের জন্য মাইকিং করা হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘মতলবের সোলেমান লেংটার মেলা অনেক বড় মেলা। জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তাই আগামীকাল থেকে মেলা বন্ধ থাকবে। আজ সন্ধ্যায় এ তথ্য ঘোষণা করা হয়েছে।’
এ ছাড়া মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) মেলার প্রথম দিনে মাজারের প্রধান খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়াকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত। তদন্তের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মেলায় মাদক সেবন ও জুয়ার অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে কয়েকজন জুয়াড়ির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
মেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও পুলিশ মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং মেলার অযাচিত কার্যক্রমের কারণে সামাজিক পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


