জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন, তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আপসহীন, তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগির

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে এখন পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিগগিরই তেলের দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের কেইপিজেড ইয়ংওয়ান করপোরেশন মিলনায়তনে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে সাশ্রয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যেখানে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক ঈদে মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, কলকারখানার কার্যক্রম এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতারই ইঙ্গিত দেয় বলে তিনি জানান।

পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পান। এ সময় তিনি ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তার মতে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী পুঁজিবাজার অপরিহার্য।

সরকারের চলমান কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সরকার কাজ করছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সিআইইউ উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন কোরিয়ান ইপিজেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে আরও বক্তব্য দেন ইয়ংওয়ান করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কিহাক সাং, সিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব এবং সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার এবং ইয়ংওয়ান করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়, বিকল্প জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ