লক্ষ্মীপুরে ১২.৬ কিলোমিটার সি-খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সুফলের আশা

লক্ষ্মীপুরে ১২.৬ কিলোমিটার সি-খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন, জলাবদ্ধতা নিরসনে সুফলের আশা

সারাদেশ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের কাফিলাতলি বাজার এলাকায় ১২.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সি-খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনকালে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। প্রকল্পের আওতায় কাফিলাতলি বাজার থেকে হামছাদী এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সি-খালটির পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে, যা সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটির প্রবাহ ব্যাহত হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে দখল ও দূষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যা জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, খালগুলো স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে হলে নিয়মিত খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, অনেক খালের ভেতরে অবৈধভাবে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং গৃহস্থালির ড্রেনের পানি খালে ফেলা হচ্ছে, যা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পানি উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সি-খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়ন এবং রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এর সুফল পাবেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট ও দখলের কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল, ফলে কৃষিজমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতি হচ্ছিল। পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সুফল দেবে। এছাড়া পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ