রাজধানী ডেস্ক
সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকান এসব নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, কাঁচাবাজার, ফার্মেসি এবং খাবারের দোকান জরুরি সেবার অংশ হিসেবে রাত পর্যন্ত বা প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে পারবে। এছাড়া হাসপাতাল সংলগ্ন দোকান এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রও এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর রাখা হয়েছে এবং তারা কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।
সরকারি এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়েছে। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে, এই সময়ে অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যালান্স করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাতের সময় দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মূলত গ্রীডে চাপ কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয় রোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের নীতিমালা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে। এছাড়া, সাধারণ জনগণকে জরুরি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন করলে শহরে রাতের সময় বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশের জ্বালানি সাশ্রয় পরিকল্পনা কার্যকর হবে। একই সঙ্গে, সাধারণ জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা যেমন ওষুধ, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুবিধা প্রাপ্তিতে কোনো বাধা তৈরি হবে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন এই নির্দেশনা প্রয়োগ ও মনিটরিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে। এছাড়া, জরুরি সেবার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সেবা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও সময়সূচি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।


