অর্থনীতি ডেস্ক
নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক আগামী ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান। বৈঠকে মোট ১৭টি প্রকল্প উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প নদী ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনসেবা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চরাঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নে ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪’ বাস্তবায়নের প্রস্তাবও এ বৈঠকে উপস্থাপিত হবে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন (চতুর্থ পর্ব) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আইটি ট্রেইনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে আটটি বিভাগীয় শহরের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি গোপালগঞ্জে একটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলাবিশিষ্ট নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নগর অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক নিবাস নির্মাণ এবং রাজধানীর জরুরি পানি সরবরাহ প্রকল্পও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্প নগর ব্যবস্থাপনা ও জনসেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাভারের সোনানিবাস এলাকায় সৈনিকদের জন্য ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। এটি সেনাসদস্যদের আবাসন সুবিধা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বৈরাগীপুর (বরিশাল)–টুমচর–বাউফল (পটুয়াখালী) সড়ক উন্নয়ন, বরিশাল–ভোলা–লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, রাঙামাটি নদীর ওপর গোমা সেতু নির্মাণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ প্রকল্পও তালিকাভুক্ত রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিতের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৩টি, গৃহায়ন ও গণপূর্তের ১টি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৫টি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৪টি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ২টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ২টি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ১টি, বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১টি প্রকল্প রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্পের অনুমোদন ও পরবর্তী বাস্তবায়ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


