আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি, মোহাম্মদ আমিন বিগলারি ও শাহিন ভাহেদিপারস্তের, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিচার বিভাগের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা মিজানের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা সেই স্থাপনা ধ্বংস ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করেছিল এবং একই সঙ্গে অস্ত্রাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত রায়টি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক বিক্ষোভকারী, আমির হোসেন হাতামিকেও একই ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি চলতি বছরের জানুয়ারি বিক্ষোভের পর থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে দশম মৃত্যুদণ্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরির বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জানুয়ারির বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ইরান সরকারের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভগুলো শুরু হয়েছিল অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক ন্যায় ও নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত অসন্তোষের প্রেক্ষিতে, যা দেশের বিভিন্ন শহরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সরকারের ওপর রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ শাস্তি কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরানের কর্তৃপক্ষ তাদের আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করছে বলে দাবি করেছে।
বিক্ষোভ ও subsequent হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা, মামলার প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার মাত্রা উভয়ই বাড়াতে পারে।
এদিকে, ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় গ্রেপ্তার হওয়া অন্য অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সম্প্রতি জানানো হয়েছে যে, আরও কিছু রাজনৈতিক বন্দির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির রায় আসতে পারে।
এ ঘটনাগুলো ইরানের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করছে।


