ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদে স্বাক্ষর না করার ব্যাখ্যা তাদেরকেই দিতে হবে। সম্প্রতি আর জে কিবরিয়ার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপি দলগতভাবে তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। আমি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে বা একজন আইনজীবী হিসেবে আমার মতো করে সিদ্ধান্ত নেব। জামায়াতও তাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি যখন আলোচনা করল, গণভোট অনুষ্ঠিত হলো এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে যায়, তারপরে যে তারা সই না করেছে, তার ব্যাখ্যা তাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে, যারা সংবিধান বাতিলের পরিকল্পনা করছিল, তারা চাইলে তা সরাসরি করতে পারত। তিনি উল্লেখ করেন, “পুরো বিষয়টিকে বিপ্লবের আকারে নেওয়া যেত এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা যেত। কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া হয়নি।”
রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তিনি শপথ গ্রহণ করেছেন, তাই সংশোধন প্রক্রিয়া সেই সংবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি গণপরিষদের শপথ সেই সংবিধান অনুযায়ী নিতে পারি না। এতে একটি আইনি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।”
তিনি সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি একবার প্রশ্ন তুলেছিলাম, এটি কি অভ্যুত্থান নাকি বিপ্লব। যদি এটি অভ্যুত্থান হয়, তাহলে সংবিধান এখনও বলবৎ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্বে থাকবেন, এবং সংবিধান অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে। কিন্তু এ নিয়ে যথাযথ সাংবিধানিক বিতর্ক হয়নি। বরং আমার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।”
এছাড়া তিনি বিএনপির অবস্থানের তর্কসাপেক্ষ দিকও উল্লেখ করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপি যদি বিষয়টি আগে পরিষ্কার করত, তাহলে দ্বৈত মানদণ্ড বা প্রতারণার অভিযোগ উঠত না। যারা সংশোধন কমিটিতে ছিলেন, দিনের পর দিন বৈঠক করেছেন এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন, তারা শেষ মুহূর্তে রিট্রিট করেছেন।”
রুমিন ফারহানার এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া ও পার্টি নীতি নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষ করে, রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।


