ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি উভয় পক্ষের

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি উভয় পক্ষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারত কোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ নিলে পাকিস্তান তার জবাব দেবে এবং পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও পাকিস্তানকে কঠোর জবাবের সতর্কবার্তা দেন।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি কোনো ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে পাকিস্তান তা প্রতিহত করবে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি দাবি করেন, এমন কোনো অভিযানে নিজেদের লোকজন বা আটক পাকিস্তানিদের ব্যবহার করে দায় পাকিস্তানের ওপর চাপানোর আশঙ্কা রয়েছে।

খাজা আসিফের এ মন্তব্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীকে সামনে রেখে এসেছে। ওই হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ঘটনাটি ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তান সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত নয় বলেও তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি কেরালায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি কোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভারত তার জবাবে নজিরবিহীন ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজনাথ সিং দাবি করেন, ২০২৫ সালের পাহেলগাম হামলার পর ভারতের সশস্ত্র বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অঞ্চলে একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে অভিযান চালায়। তিনি জানান, ‘অপারেশন সিনদুর’ নামে পরিচালিত এক অভিযানে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

ভারতের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তান এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করে আসছে।

পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। যদিও পরবর্তীতে ১০ মে যুদ্ধবিরতির আহ্বানের পর দুই দেশই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করে। তবুও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু, এমন পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। উভয় দেশের সাম্প্রতিক বক্তব্য পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও জোরালো করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ