আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জারেই শাহিন শহরের সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কলেজের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বার্তা সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জারেইর মৃত্যু ঘটেছে সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক হামলার সময়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই হামলার পর থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অঞ্চলে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরান নিহত জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের ঘটনায় জবাবি পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া তেহরান গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহন সীমিত হলে গ্লোবাল বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র নীতি নির্ধারক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইরান এই হামলার পর আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক প্রতিরক্ষার সীমারেখা নির্ধারণে কৌশলগত পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা করার জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


