রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত রায় বাস্তবায়নের জন্য তার দল রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে তার দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি পক্ষ তা প্রভাবিত করেছে বলে তার দলের ধারণা। এ প্রেক্ষাপটে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত রাজনৈতিক আন্দোলন কেবল ব্যক্তিগত নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবিতে হয়েছে বলে তার দল মনে করে। এ ধরনের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার সংস্কার, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিরোধী দলের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত থাকে বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি সংকট এবং হাম রোগের সংক্রমণসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সংসদে উত্থাপন করা হলেও সেগুলো যথাযথভাবে আলোচনায় আসে না।
জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারিভাবে সংকট না থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে ভোক্তারা প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহিতা বজায় রাখতে সংসদের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কবি, সাহিত্যিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। তারা রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণ এবং বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তারা সংসদে গণআন্দোলনের চেতনা প্রতিফলিত করার আহ্বান জানান।
সামগ্রিকভাবে, আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনগণের মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


