সারাদেশ ডেস্ক
হাইমচর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধন ও চিংড়ি রেণু পাচারে লিপ্ত অসাধু জেলেদের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) হাইমচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ গাজীর নেতৃত্বে এই বিশেষ তৎপরতা পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণের জন্য মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা ও জাল ফেলা নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যেও কিছু অসাধু জেলে সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার পাশাপাশি চিংড়ি রেণু সংগ্রহ ও পাচারে লিপ্ত ছিল। স্থানীয় ঝোপঝাড় ও সুপারি বাগানের আড়ালে তারা অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে রাতের আঁধারে জাটকা ও চিংড়ি রেণু ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছিল।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় অসাধু জেলেদের নির্মিত অস্থায়ী ঝুপড়িগুলো ভেঙে দেওয়া হয় এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য না করার জন্য আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ গাজী বলেন, “জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। জাটকা সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা নদীর পাড়ে এবং রাজপথে সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কোনো অপশক্তিকে ইলিশ সম্পদ ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সরদার জানান, আস্তানা উচ্ছেদের সময় নদীতে জাল ফেলার কিছু নৌকাকেও ধাওয়া করা হয়েছে। বিএনপির উপস্থিতি টের পেয়ে অসাধু জেলেরা নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম চলবে।”
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ফয়সাল আখন বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের টালবাহানা চলবে না। জাটকা নিধন ও চিংড়ি রেণু পাচারের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
অভিযান চলাকালীন উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহসিন সরদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জনি সরদার ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
প্রতিবছরের মতো এবারও প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ ধরনের তৎপরতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং নদীর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।


