বাংলাদেশ ডেস্ক
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই এবং দুই দেশের মধ্যে যে সকল সমঝোতা বা সহযোগিতা রয়েছে, তা প্রকাশ্যভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং তা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব আলোচনায় কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা অপ্রকাশিত সমঝোতার বিষয় নেই।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। তিনি বলেন, সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় জ্বালানি সংগ্রহ করে থাকে। এ ক্ষেত্রে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি না করে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করার নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এসব আলোচনা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচনার কিছু বিষয় কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সমঝোতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এসব বিষয় বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান দাতা দেশ হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সরকার বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সফরের সময়সূচি ও সম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশ চূড়ান্ত করা হয়নি।
সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই উপকৃত হবে।


