যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অংশ নেননি আসিফ নজরুল: সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বক্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি আলোচনায় অংশ নেননি আসিফ নজরুল: সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বক্তব্য

বাংলাদেশ ডেস্ক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় তাকে কখনোই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, এসব বিষয় তার দায়িত্বের আওতার বাইরে ছিল এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক, ব্যাংকিং ও রাজস্ব সংক্রান্ত আলোচনায় অন্য উপদেষ্টারা অংশ নিতেন।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হতো। আইন, রাজনৈতিক ও সংস্কার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে নিয়মিত ডাকা হলেও অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক আলোচনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয় অনুযায়ী উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করতেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যেখানে যাকে প্রয়োজন, সেখানে তাকেই ডাকা হতো।” অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রভিত্তিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সাক্ষাৎকারে সরকারের অভ্যন্তরে তথাকথিত ‘কিচেন কেবিনেট’ বা একটি ছোট পরামর্শক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে আসিফ নজরুল এ অভিযোগ নাকচ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকারের আমলে কিচেন কেবিনেট ছিল না?” তার মতে, বিভিন্ন সময়ে সরকারগুলোতে অনানুষ্ঠানিক বা সীমিত পরিসরের পরামর্শক গোষ্ঠী থাকলেও সেটি অস্বাভাবিক নয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু উপদেষ্টা নির্দিষ্ট বিষয়ে বেশি সম্পৃক্ত থাকেন, আবার অন্যরা কম গুরুত্বপূর্ণ বা কম সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কারণে সব আলোচনায় থাকেন না। ফলে কারও অনুপস্থিতি থেকে কোনো গোপন কাঠামোর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না।

সাবেক এই আইন উপদেষ্টা আরও একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, একজন উপদেষ্টা দাবি করেছিলেন যে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ছিলেন না। তবে শ্রম আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সেই উপদেষ্টাই প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন এবং অধিকাংশ সিদ্ধান্তে তার মতামতই প্রাধান্য পেয়েছে। এতে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচন আইন প্রণয়নের খসড়া নিয়ে আসে, তখনও একই ধরণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় বলে তিনি জানান। ওই সময় উপদেষ্টারা সম্মিলিতভাবে বৈঠকে বসেন এবং যাদের নির্বাচনী বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞতা ছিল, তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত নেওয়া হয়। আসিফ নজরুলের ভাষ্যমতে, এই ধরনের প্রক্রিয়া নীতিনির্ধারণে বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব নিশ্চিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চুক্তি বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্পৃক্ততা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা নিয়ে জনমনে আগ্রহ থাকে।

সাক্ষাৎকারে আসিফ নজরুলের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোতে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় ধরনের পরামর্শ প্রক্রিয়া বিদ্যমান ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো গোপন বা অস্বচ্ছ ব্যবস্থার অংশ ছিল না; বরং প্রয়োজনভিত্তিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

Uncategorized জাতীয় শীর্ষ সংবাদ