আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সোমবার বলেছেন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইরানের বাহিনী সত্যের পথে থাকা যোদ্ধা ও আত্মত্যাগী সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী ও গভীরভাবে প্রোথিত ফ্রন্ট, যাদের মনোবল ভাঙা যাবে না।
এই মন্তব্য মোজতবা খামেনি করেছেন মাজিদ খাদেমি এর মৃত্যুর পর। খাদেমি, যিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা খাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। খামেনি বলেন, খাদেমি দেশটির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
একই সময়ে, ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের বিশেষ অভিযান ইউনিটের কমান্ডার আসগর বাঘেরি কে হত্যা করেছে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ইরান থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখযোগ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযানে ইরানের একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি এবং অঞ্চলভিত্তিক সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আইআরজিসির কুদস ফোর্স, যা বিদেশি কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত, তার নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, ইরানের প্রতিক্রিয়া ও কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।
মোতাবেক, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা এবং নিজেদের কার্যক্রমকে আরো সুরক্ষিত করার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করছে।


