গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি

গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি

আইন আদালত ডেস্ক

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথকে আরও সুসংহত করবে। সংশোধনী অনুযায়ী, গুমকে এক ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার পর সংসদে বলেন, গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতা শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করার সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গুমের বিচারকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আইনটি কার্যকর করার মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “গুম আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন তা অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমরা বিচারের জন্য বৈধ ভিত্তি স্থাপন করেছি।”

বিল উত্থাপনের সময় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া প্রদান করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় আসলে এই বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন এবং বর্তমান অধিবেশনে আরও কিছু মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।

সংসদীয় কার্যক্রম চলাকালে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন, সংসদের আলোচনার মধ্যে তার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার জন্য। তিনি বলেন, “বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন এখানে সংসদীয় আইনে নেই। বিধি অনুযায়ী যেটুকু করতে হবে, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।”

এর আগে, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস অ্যাক্ট-এর অধিকতর সংশোধনের প্রেক্ষাপটে এই বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয়েছিল। সংশোধনী পাস হওয়ার ফলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচারের আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিলটির কার্যকর বাস্তবায়ন গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোতে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বিল দেশের আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতা পূরণে এবং গুম সংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সহায়তা করবে। তারা আরও বলেন, গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো প্রস্তুত হয়েছে।

বিলটি পাস হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে সরকারের পদক্ষেপ দৃঢ়ভাবে উঠে এসেছে। এটি দেশকে গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে দায়বদ্ধ ও ট্রান্সপারেন্ট বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

সংক্ষেপে, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে দেশের আইনি কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, যা গুম সংক্রান্ত অপরাধের বিচারে কার্যকর ও স্থিতিশীল প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ