আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে রহস্যময় ও শক্তিশালী ‘ডুমসডে প্লেন’ বা প্রলয়ঙ্করী বিমান উড়তে দেখা গেছে, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা সৃষ্টি করেছে। বিমানটি সোমবার (৬ এপ্রিল) আকাশে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এটি বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও সরকারের কার্যক্রম সচল রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানটি নেব্রাস্কার অফুট বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে আশপাশের এলাকায় অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়ার পর পুনরায় ঘাঁটিতে ফিরে আসে। এই বিশেষ বিমান, যা ‘উড়ন্ত পেন্টাগন’ হিসেবেও পরিচিত, জরুরি অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আকাশভিত্তিক কমান্ড সেন্টারের ভূমিকা পালন করে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘নাইটওয়াচ’ বিমানটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ, সাইবার আক্রমণ এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস মোকাবেলায় সক্ষম। এতে তিনটি ডেক, ১৮টি বাঙ্ক, কনফারেন্স রুম ও কমান্ড রুম রয়েছে। এছাড়া ৬৭টি স্যাটেলাইট ডিশ ও অ্যান্টেনার মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো স্থানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন চারটি বিমান রয়েছে, যা সারা বছর নিয়মিত মহড়া ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালীর কার্যক্রম পুনর্বহাল ও তার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিতে সম্মতি জানাতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে একটি দেশ এক রাতেই নিশ্চিহ্ন হতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই বিশেষ বিমানের উপস্থিতি মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বিমানের এই উড্ডয়ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্যে তেলের পরিবহন ও স্থাপত্যিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ বিমানের মূল লক্ষ্য পারমাণবিক যুদ্ধ বা জাতীয় সংকটের সময় সরকার ও সামরিক নেতৃত্বকে ক্রমাগত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দিয়ে সচল রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন মহড়া বা পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র প্রস্তুতি নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি অংশ।
এই বিমানটির কার্যক্রম ও মহড়া প্রথাগতভাবে গোপন রাখা হয়, তবে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও পর্যবেক্ষণ তথ্য থেকে প্রকাশ হচ্ছে যে, এটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, এ ধরনের বিমান শুধুমাত্র সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয় এবং এর উদ্দেশ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় নেতৃত্বের সংহতি রক্ষা করা।
বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের ওপর বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যেকোনো ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ বা ভুল বোঝাবুঝি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিশেষ বিমানের কার্যক্রমকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য।


