জাতীয় ডেস্ক
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের সময়ে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। এ প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের সকল কার্যক্রম প্রস্তুত রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব এবং বাংলাদেশ অংশের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে এবং সৌদি আরবের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, হজ ২০২৭-এর জন্য হজ প্যাকেজ প্রণয়নের সময় হজযাত্রীদের সুবিধা ও চাহিদা বিবেচনা করে সামগ্রিক খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার হজযাত্রীদের আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করছে, যাতে হজ কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।
হজ কার্যক্রম বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক ঘটনা। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় লাখ লাখ মানুষ সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় হজ পালন করেন। দেশব্যাপী হজযাত্রীদের নিবন্ধন, ভিসা প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করা সরকারের মূল দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
সম্প্রতি হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে হজযাত্রীদের তথ্য দ্রুত পর্যবেক্ষণ, ফ্লাইটের সূচি, স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সেবা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বিমান বন্দর ও আকাশপথ নিরাপত্তা, হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়। এছাড়া হজযাত্রীদের সহায়তার জন্য কল সেন্টার ও অনলাইন সমর্থন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
এ ধরনের পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুষ্ঠু হজযাত্রা নিশ্চিত করা হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ব্যবস্থা হজ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সময়নিষ্ঠ ও সুবিধাজনক করবে।


