বাংলাদেশ ডেস্ক
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলটি পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী উত্থাপন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বিলটি হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আনা হয়েছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) একটি রিট আবেদনের মাধ্যমে জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইনের দ্রুত প্রণয়নের অনুরোধ করে। হাইকোর্ট রায়ে বিল প্রণয়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যা সরকারের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হাওর অঞ্চলের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি সম্প্রসারণের জন্য ১৯৭৭ সালে ‘হাওর উন্নয়ন বোর্ড’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদফতর গঠন করা হয়। অধিদফতরের প্রতিষ্ঠার পর হাওর অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদীপথে বাধা সৃষ্টি, বিষ ও কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা। হাইকোর্টের নির্দেশনা, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং হাওর ও জলাভূমি এলাকার পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন আইনটি হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডকে একটি আইনি কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি পর্যটন, মৎস্য এবং কৃষি সংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর নির্ধারিত নিয়মনীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জলাধার ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা আইনটির অন্যতম লক্ষ্য।
আইন প্রণয়ন দ্বারা হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোগত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীর সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিলটি পাস হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর এখন আইন কার্যকর করার জন্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে হাওর ও জলাভূমি অঞ্চলের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


