ইরান–যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে শান্তি আলোচনার জন্য ১০ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) শুরু হওয়া আলোচনায় এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা চালানো হবে। খবরটি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বরাতে পাওয়া গেছে।

প্রস্তাবিত ১০ দফার মধ্যে মূল দিকগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত’ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া তারা একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ গঠনের দাবি করেছে, যা প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য রক্ষা করবে।

তেহরান আরও দাবি করেছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া, ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর চলমান হামলা বন্ধ করে তাদের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।

অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছে। তারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নেতিবাচক প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি গত বছরের বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

ইসলামাবাদে আলোচনায় সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক রেজুলেশন হিসেবে পাস করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এই সমঝোতা থেকে সরে যেতে না পারে।

পাকিস্তান মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সমঝোতা করেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে নিরাপদে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে আসবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা যদি সাফল্য অর্জন করে, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন–ইরানি সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, প্রস্তাবিত নীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জটিলতার কারণে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে তা সময়ের সঙ্গে জানা যাবে।

ইরানের এই পদক্ষেপ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা, এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কমানোর প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনার ফলাফল শুধুমাত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককেই প্রভাবিত করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ