আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর কোরিয়া বুধবার (৮ এপ্রিল) জাপানের পশ্চিম উপকূল এবং কোরীয় উপদ্বীপের মধ্যবর্তী পূর্ব সাগরে দুই দফা স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সংস্থাগুলো এই ঘটনা শনাক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছে, প্রথম দফার মিসাইলগুলো উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ছোড়া হয় এবং ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে পড়ে। এর আগে রাজধানী পিয়ংইয়ং থেকে অজ্ঞাত বস্তু উৎক্ষেপণ করা হয়, যা অবিলম্বে মাটিতে পড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানাচ্ছে, তারা উত্তর কোরিয়ার কর্মকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও নতুন মিসাইল উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং তা সাধারণ জনগণকে জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি, জাপানের পূর্ব সাগরে থাকা বিমান, নৌযান ও অন্যান্য সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম ইয়ো-জং-এর পূর্ব সতর্কতার পর এসেছে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমার ওপর থেকে উত্তর কোরিয়ার অনেক বেসামরিক ড্রোন উড়ানো হচ্ছে, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিসাইল উৎক্ষেপণ উত্তেজনার মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা তদারকিতে চাপ বৃদ্ধি করবে।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের কারণে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ ঘটনার মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে এটিকে মূল্যায়ন করছেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সজাগ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করছে।
উত্তর কোরিয়ার পুনরাবৃত্তি উৎক্ষেপণ এবং ড্রোন ব্যবহারের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মনোযোগ বাড়িয়েছে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি জোর দিচ্ছে।


