জাতীয় পর্যটন খাতের জন্য ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ

জাতীয় পর্যটন খাতের জন্য ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

জাতীয় পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী দুই দশকের জন্য একটি সমন্বিত ও কৌশলগত ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন খাতের পাঁচটি মূল প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এগুলো হলো: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার, কমিউনিটি ও ওয়াটার ট্যুরিজমের উন্নয়ন এবং গ্রাম পর্যটনের উন্নয়ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত আছে পর্যটন খাত সংক্রান্ত আইন, নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন, পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার রূপরেখা।

তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৩০টির বেশি জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। সব অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষার প্রসারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আরও পেশাদার ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করার পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আকর্ষণীয় পর্যটন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হবে। এটি স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ