জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বুধবার (৮ এপ্রিল) ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। নতুন আইনটির লক্ষ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায় নির্ধারণ করা।
বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উত্থাপিত বিলের বিষয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আইনটির কিছু দিক নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত বিলটিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংজ্ঞায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে একরূপভাবে বিচার করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমকে একইভাবে দেখা হবে।”
বিলটি পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর করা উল্লেখ এবং কার্যক্রমের প্রভাব বিষয়ে সংসদে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সরকারি বক্তব্যে বলা হয়, আইনটি জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশন চলাকালীন কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সুরক্ষা প্রদান এবং দায় নির্ধারণ প্রক্রিয়া আইনিভাবে প্রণীত হয়েছে।
নিয়মিত আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিলটি কার্যকর হলে দেশের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে। বিশেষ করে সামাজিক আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থানের সময় অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার সীমা নির্ধারণে আইনটি ব্যবহারিক গুরুত্ব রাখবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইন প্রণয়নকারী কমিটি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে পর্যবেক্ষণ বজায় রাখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা কার্যকর থাকবে।
জাতীয় সংসদে এই বিল পাস হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


