জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এই তথ্য মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে প্রদান করা হয়েছে।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন একটি লিখিত প্রশ্নে জানতে চেয়েছিলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে কি না এবং বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা কত। এছাড়া তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ওই গ্রামগুলোতে সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
শিক্ষামন্ত্রী তার উত্তরে জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি জানান, বিভাগের ভিত্তিতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা নিম্নরূপ: ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি।
মিলন আরও বলেন, ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট শর্তাদি বিবেচনার মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত স্থানগুলোর শিক্ষার চাহিদা, জনসংখ্যা, অবকাঠামো ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দেশে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও গ্রামীণ অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যদিও সরকারি তথ্য অনুযায়ী ২৮৪৭টি গ্রামে এখনও বিদ্যালয় নেই, তবে শিক্ষামন্ত্রণালয় এ ধরনের অঞ্চলগুলিতে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া দেশের শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষকের যোগ্যতা, শিক্ষার মান, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহায়তা শিক্ষার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষামন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে চালানো হবে। মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও জনসংখ্যা ভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এই পদক্ষেপ দেশের শিক্ষার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং গ্রামীণ শিশুদের মৌলিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।


