শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারের উদ্যোগ

শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদারের উদ্যোগ

 

শিক্ষা ডেস্ক

সরকার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাল সনদধারী শিক্ষকদের চিহ্নিত করা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান কার্যক্রম মনিটর করার জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম’ চালু এবং ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’-এর মাধ্যমে শিক্ষকদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম এবং একাডেমিক তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে সব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ইমপ্যাক্ট ইভ্যালুয়েশন’ বা প্রভাব মূল্যায়নের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের জন্য ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং সমন্বিত প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তকরণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম চালু এবং শিক্ষক স্বল্পতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শূন্য পদের তালিকা ইতিমধ্যেই সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘অ্যাক্সিলারেটিং সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা হবে। এসব পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারি পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ