জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদ আজ (৮ এপ্রিল) সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ অনুমোদন করেছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশকে হুবহু সংসদে স্বীকৃতি দিচ্ছে। বিলটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এই সংশোধনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্তার প্রতি শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়নি, যদিও পূর্বে এ ধরনের প্রস্তাব সংসদে বিবেচিত হয়েছিল।
আজকের অধিবেশনের দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিল উত্থাপনের অনুমতি দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বিলটি তোলার পর স্পিকারের আহ্বানে পুনর্বিবেচনার জন্য তা আবার উত্থাপন করেন। দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী না থাকায় বিষয়টি নিয়ে সংসদে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। বিল পাসের প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রাপ্ত একটি নথি পুরোপুরি পড়ার সময় তাদের হয়নি এবং আইনটি স্পর্শকাতর হওয়ায় কিছু সময় চান। স্পিকার জানান, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তি করার সুযোগ নেই এবং এরপর বিল পাসের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে উত্থাপিত হয়।
বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশোধনীটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে এই আইন প্রণীত হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও তাদের বন্ধুরা পূর্বে আন্দোলন চালিয়েছিল, যা জনমতের সৃষ্টি করে। সেই প্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। এছাড়াও, আইসিটি অ্যাক্ট সংশোধন করে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী আনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলের নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পূর্বে আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না; শুধুমাত্র প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকলে তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ করার সুযোগ ছিল। সংশোধনী প্রবর্তনের ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিল পাসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রবর্তিত অধ্যাদেশকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্তার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত কোনো সত্তার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি প্রক্রিয়া চালানোর সুযোগ বাড়াবে। একইসাথে, এটি নির্বাচনী পরিবেশ এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সংসদে বিল পাস হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় সংশোধনী উত্থাপন ও আলোচনার পর্যায়ে বিরোধীদল যথাযথ সময় নিলে আরও বিস্তারিত বৈঠক ও সংশোধনী আনা সম্ভব হত। তিনি বলেন, ‘জাতি পরিষ্কার আছে, আমরাই ময়লা করি,’ উল্লেখ করে আইন প্রয়োগের প্রতি সরকারের নীতি তুলে ধরেন।
এই পাসের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী হচ্ছে, এবং দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো মজবুত হবে।


